১০:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন ও পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের ক্ষোভ

এলজিইডির প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে দূর্যোগের ঘনঘটা: জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পাঁয়তারা ও সিন্ডিকেটের নেপথ্য চক্রান্ত

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৫ বার পড়া হয়েছে

এলজিইডির প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে দূর্যোগের ঘনঘটা: জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পাঁয়তারা ও সিন্ডিকেটের নেপথ্য চক্রান্ত

৯০

বিশেষ প্রতিনিধি, নিউজ বাংলা বিডি ২৪.কম।

অফিশিয়াল গ্র্যাজুয়েশন লিস্টের সর্বোচ্চ জ্যেষ্ঠতার ক্রমকে অকার্যকর করে অবসরপ্রাপ্ত ও চরম বিতর্কিত সাবেক কর্মকর্তা জাভেদ করিমকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার একটি নেপথ্য চক্রান্ত জোরদার করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং স্থানীয় সরকার কাঠামোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রধান নির্বাহী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। দেশের সার্বিক অবকাঠামোগত অর্থনীতির বিশাল অংশ এই অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হলেও সম্প্রতি এর শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গভীর প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা ও নানামুখী চক্রান্তের বিস্তার ঘটেছে। সরকারি প্রশাসনিক বিধিমালা উপেক্ষা করে নেওয়া এই অনিয়মতান্ত্রিক পদক্ষেপ এলজিইডির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং কাজের গতিশীলতার ওপর এক ঘোর দুর্যোগের ছায়া ফেলেছে।

গ্র্যাজুয়েশন লিস্ট, সাকসেসন প্ল্যান ও এ বি এম রেজাউল বারীর প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার

সরকারি চাকরির বিধিমালা ও এলজিইডির প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রধান প্রকৌশলীর পদটি খালি হলে পরবর্তী শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে জ্যেষ্ঠতা, মেধা ও পেশাগত রেকর্ডের ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়াই একমাত্র আইনসম্মত পন্থা। অধিদপ্তরের বর্তমান অফিশিয়াল গ্র্যাজুয়েশন লিস্ট, পদোন্নতি যোগ্যতার বর্ষপঞ্জি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার মানদণ্ডে পরবর্তী প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে অবস্থান করছেন ঢাকা বিভাগের বর্তমান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ বি এম রেজাউল বারী। নিয়ম ও অফিশিয়াল তালিকা অনুযায়ী সাবেক প্রধান প্রকৌশলী বেলালের পূর্বেও তাঁর জ্যেষ্ঠতার ক্রম অবস্থান করছিল।
প্রকৌশল অঙ্গনে এ বি এম রেজাউল বারী একজন নিবেদিতপ্রাণ ও অত্যন্ত দক্ষ প্রযুক্তিবিদ হিসেবে সুপরিচিত। সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণ, জটিল অবকাঠামোগত নকশা অনুমোদন এবং কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এক অনন্য ‘রিসোর্স পার্সন’ হিসেবে অবদান রাখছেন। বিষয়ভিত্তিক অসাধারণ জ্ঞান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং সততা এলজিইডির কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের মাঝে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। অথচ প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার সমস্ত নিয়ম ভেঙে এমন একজন যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বঞ্চিত করে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বসানোর পাঁয়তারা চলছে।

আব্দুর রশীদ মিয়ার বিতর্কিত নিয়োগ ও বাতিলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিজ্ঞতা

এলজিইডিতে অনিয়মতান্ত্রিক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ হলো আব্দুর রশীদ মিয়ার ঘটনা। ইতিপূর্বে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান চলা সত্ত্বেও চরম বিতর্কিত কর্মকর্তা আব্দুর রশীদ মিয়াকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এই নিয়োগ প্রকাশের পরপরই এলজিইডির প্রকৌশলী মহল এবং সংবাদমাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভের ঝড় ওঠে।
গণমাধ্যমের ধারাবাহিক সমালোচনা এবং প্রশাসনিক অসন্তোষের মুখে মাত্র ৪-৫ দিনের মাথায় সরকার ওই বেআইনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করতে বাধ্য হয়। ওই একটি সিদ্ধান্ত সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও সুশাসনের ভাবমূর্তিকে চরম প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল। সেই বিতর্কিত ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পুনরায় একই পদ্ধতিতে আরেক বিতর্কিত কর্মকর্তা জাভেদ করিমকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার অপচেষ্টা প্রশাসনিক দূরদর্শিতার চরম অভাবকেই নির্দেশ করে।

ফ্যাসিবাদের আমলেও রক্ষিত জ্যেষ্ঠতা: অভূতপূর্ব প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা

বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) মতো অত্যন্ত কারিগরি ও সংবেদনশীল দপ্তরগুলোতে শীর্ষ পদায়নে জ্যেষ্ঠতার অনুক্রম বা ‘সাকসেসন প্ল্যান’ কঠোরভাবে অনুসরণ করা হতো। এমনকি বিগত চরম স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট আমলেও এই দপ্তরগুলোর প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে জ্যেষ্ঠতার ক্রম বা সিরিয়াল ভাঙার সাহস করা হয়নি। অথচ বর্তমান সময়ে এসে সকল নিয়ম-কানুন ও জ্যেষ্ঠতার অনুক্রম ছিন্নভিন্ন করে চরম দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত একজন সাবেক কর্মকর্তাকে পুনরারোহণের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, যা সংস্থাটির সার্বিক পেশাদারিত্বের ভিত্তি ধসিয়ে দেওয়ার শামিল।

ক্ষমতার বহিরাগত মেরুকরণ ও নেপথ্যের সিন্ডিকেট

নিয়মতান্ত্রিক পদোন্নতির পথ রুদ্ধ করে জাভেদ করিমকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার এই প্রক্রিয়ার পেছনে কাজ করছে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিন্ডিকেট:

বহিরাগত মন্ত্রীর রাজনৈতিক প্রভাব

এই অনিয়মতান্ত্রিক নীল নকশার মূল কাণ্ডারি হিসেবে কলকাঠি নাড়ছেন লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের একজন প্রভাবশালী পূর্ণ মন্ত্রী। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও অন্য মন্ত্রণালয় থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলজিইডির অভ্যন্তরীণ শীর্ষ পদায়নে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন।
যদি এই বহিরাগত মন্ত্রী তাঁর চক্রান্তে সফল হন, তবে এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদ্বয়ের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ও প্রভাব মারাত্মকভাবে মুখ থুবড়ে পড়বে। পুরো দপ্তরটি একটি একক কায়েমি স্বার্থান্বেষী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে, যার ফলে এলজিইডি তার দীর্ঘদিনের গৌরবময় প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্য ও সার্বভৌমত্ব হারাবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত মো. শহীদুল হাসান এই সংবেদনশীল প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণে প্রশাসনিক অনুঘটক হিসেবে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কৌতূহলজনক বিষয় হলো, ২০০১ সালে মো. শহীদুল হাসান যখন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন, তখন তিনি নিজেই রাজনৈতিক চাপে জুনিয়র জাভেদ করিমকে বেআইনিভাবে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী করার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি নিজেই সেই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ফাইল সমন্বয়ে ভূমিকা রাখছেন।

অভ্যন্তরীণ পদায়ন শাখা

এলজিইডি সদর দপ্তরের নিয়োগ ও পদায়ন শাখার কর্মকর্তা (নির্বাহী প্রকৌশলী, চলতি দায়িত্ব) মো. শফিকুল ইসলাম জ্যেষ্ঠতা তালিকা সংক্রান্ত নথি সাজানো এবং মেধানুক্রম গোপন করে মন্ত্রণালয়ে বিভ্রান্তিকর ফাইল পাঠাতে অভ্যন্তরীণ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন।

অভিযুক্ত জাভেদ করিম: দুর্নীতির নথি ও অঢেল সম্পদের খতিয়ান

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের তালিকায় থাকা সাবেক কর্মকর্তা জাভেদ করিমের পুরো কর্মজীবন অনিয়ম ও চরম বিতর্ক দ্বারা আচ্ছন্ন। তাঁর দুর্নীতির বিষয়ে পূর্বে সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক লেখালেখি হয়েছে এবং সরকারের উচ্চপর্যায়েও লিখিত নথি জমা পড়েছে:
শুরুতেই বিধি লঙ্ঘন: কুয়েট (KUET) থেকে বিএসসি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রাক-চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগেই পিতার রাজনৈতিক প্রভাবে সরকারি শর্ত ভঙ্গ করে এলজিইডিতে রাজস্ব খাতের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।
লক্ষ্মীপুরে ৫ বছরের একচ্ছত্র রাজত্ব: ২০০১ সালে রাজনৈতিক প্রভাবে চরম জুনিয়র কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও লক্ষ্মীপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর (এক্সইএন) পদ বাগিয়ে নিয়ে টানা ৫ বছর অঘোষিত সম্রাটের মতো টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেন।
২৭ দিনের নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য: ২০২৪ সালের নভেম্বরে রুটিন দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী থাকার সময় মাত্র ২৭ দিনে নিজ অফিসে না বসে গোপনে ৭ কোটি টাকার বদলি বাণিজ্য করেন এবং নিজ জেলার জন্য বিধিবহির্ভূতভাবে ৫০-৬০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেন।
হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: তাঁর অর্জিত অবৈধ সম্পদের বিবরণ সরকারের উচ্চপর্যায়ে ও দুদকে জমা পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুলশান-১ এর ১৩০ নম্বর সড়কে শতকোটি টাকার ৩০ কাঠা জমি ও গ্যারেজ, বনানীর ২৫/এ সড়কে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ের ৫৫ নম্বর বহুতল ভবন, প্রগতি সরণিতে শতকোটি টাকার প্লট এবং হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে হাজার কোটি টাকা পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ।

প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ মানদণ্ড ও বিবরণ

এ বি এম রেজাউল বারী ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, জ্যেষ্ঠতার তালিকায় শীর্ষে এলজিইডির স্বীকৃত ‘রিসোর্স পার্সন’ ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ সর্বজনস্বীকৃত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও সৎ কর্মকর্তা অফিশিয়াল জ্যেষ্ঠতা ও মেধানুযায়ী শতভাগ স্বাভাবিক দাবিদার

জাভেদ করিম অবসরপ্রাপ্ত ও বিতর্কিত সাবেক কর্মকর্তা, শুরুতেই ফল প্রকাশের আগে নিয়ম ভেঙে চাকরিতে প্রবেশে অভিযুক্ত,
শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও পাচারে অভিযুক্ত, রাজনৈতিক লবিং ও বিপুল অর্থ বিনিয়োগের ব্যাকডোর প্রার্থী

রাষ্ট্র পরিচালনা ও সুশাসনের ওপর বিধ্বংসী প্রভাব

একটি চরম দুর্নীতিগ্রস্ত ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সকল নিয়মকানুন ভেঙে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার এই পাঁয়তারা রাষ্ট্র পরিচালনা ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার ওপর গভীর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে:
১. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুশাসন নীতির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক: বর্তমান সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিমুক্ত, মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ রাষ্ট্র পরিচালনার যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, জাবেদ করিমের মতো চিহ্নিত দুর্নীতিবাজকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলে তা সরকারের সেই ঘোষিত নীতির মুখচ্ছবিকে সরাসরি ক্ষুণ্ন করবে।
২. মেধাবী প্রকৌশলীদের সততার উৎসাহ বিনাশ: যখন নিয়মতান্ত্রিক পদোন্নতি ও জ্যেষ্ঠতা ডিঙিয়ে অনৈতিক লবিংকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, তখন সংস্থায় কর্মরত শত শত মেধাবী ও সৎ প্রকৌশলী সততার সাথে কাজ করার মানসিক উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন। এতে পুরো ক্যাডার সার্ভিসে চরম হতাশা ও প্রশাসনিক স্থবিরতা দেখা দেবে।
৩. উন্নয়নের চেয়ে টাকা তোলায় ব্যস্ততা: শত কোটি টাকা খরচ ও লবিং করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা চেয়ারে বসে দেশের টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে নজর না দিয়ে, নিজেদের বিনিয়োগকৃত টাকা সুদে-আসলে তুলতে এবং রাজনৈতিক প্রভুদের তুষ্ট করতে কমিশন বাণিজ্য ও অর্থ আদায়ে ব্যতিব্যস্ত থাকবেন।
৪. আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থা সংকট: এলজিইডির প্রধান প্রধান অবকাঠামো প্রকল্প বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। একজন চরম বিতর্কিত ও দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি শীর্ষপদে থাকলে বৈদেশিক অর্থায়ন বন্ধ বা ধীরগতির ঝুঁকিতে পড়বে।

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় করণীয় ও সুপারিশমালা

এলজিইডিকে এই আসন্ন বিপর্যয় ও প্রাতিষ্ঠানিক ধস থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে নিম্নলিখিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা জরুরি:
১. নিয়মতান্ত্রিক জ্যেষ্ঠতা অনুসরণ: অফিশিয়াল গ্র্যাজুয়েশন লিস্টের শীর্ষে থাকা যোগ্য, সৎ ও ‘রিসোর্স পার্সন’ হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ বি এম রেজাউল বারীকে অবিলম্বে নিয়মিত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি প্রদান করা।
২. চুক্তিভিত্তিক প্রথা রদ: কারিগরি সংস্থাগুলোতে নিয়মিত কর্মকর্তাদের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করে বহিরাগত বা অবসরপ্রাপ্তদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের চক্রান্ত স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
৩. বহিরাগত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ: অন্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ রোধ করে এলজিইডির প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দাপ্তরিক নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা করা।
৪. দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত: জাবেদ করিমের অবৈধ সম্পদ অর্জন, ফল প্রকাশের আগে বেআইনি চাকরি লাভ এবং ২৭ দিনের বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ দুদকের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ওয়েবসাইট

আপলোডকারীর তথ্য

MAHMUDUR RASHID

Mahmudur Radlshid serves as the Executive Editor of newsbanglabd24.com, steering the organization’s editorial vision with a sharp focus on political accountability, governance, and public-interest journalism. A seasoned newsroom strategist and political journalist, he is known for his uncompromising editorial judgment and commitment to exposing facts that shape national discourse. Under his leadership, the newsroom prioritizes investigative reporting, data-driven analysis, and ground-level political coverage that challenges power structures and amplifies public voice. He has built a reputation for maintaining editorial independence in high-pressure environments, ensuring that reporting remains factual, balanced, and resistant to external influence. His editorial direction emphasizes courage in reporting, accuracy in verification, and clarity in public communication. As Executive Editor, he oversees all editorial operations, including political desk strategy, investigative assignments, and content integrity. He actively mentors journalists within the organization, fostering a newsroom culture rooted in professional rigor, ethical responsibility, and investigative depth. Through newsbanglabd24.com, he continues to advance a journalism model centered on transparency, accountability, and fearless reporting in the public interest.
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনকে ঘিরে প্রশ্নের পর প্রশ্ন, অনুসন্ধানে মিলেছে সরকারি বিধি ও ব্যবসায়িক স্বার্থের সংঘাতের তথ্য৷

Verified by MonsterInsights

জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন ও পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের ক্ষোভ

এলজিইডির প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে দূর্যোগের ঘনঘটা: জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পাঁয়তারা ও সিন্ডিকেটের নেপথ্য চক্রান্ত

আপডেট সময় : ১০:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
৯০

বিশেষ প্রতিনিধি, নিউজ বাংলা বিডি ২৪.কম।

অফিশিয়াল গ্র্যাজুয়েশন লিস্টের সর্বোচ্চ জ্যেষ্ঠতার ক্রমকে অকার্যকর করে অবসরপ্রাপ্ত ও চরম বিতর্কিত সাবেক কর্মকর্তা জাভেদ করিমকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার একটি নেপথ্য চক্রান্ত জোরদার করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং স্থানীয় সরকার কাঠামোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রধান নির্বাহী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। দেশের সার্বিক অবকাঠামোগত অর্থনীতির বিশাল অংশ এই অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হলেও সম্প্রতি এর শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গভীর প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা ও নানামুখী চক্রান্তের বিস্তার ঘটেছে। সরকারি প্রশাসনিক বিধিমালা উপেক্ষা করে নেওয়া এই অনিয়মতান্ত্রিক পদক্ষেপ এলজিইডির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং কাজের গতিশীলতার ওপর এক ঘোর দুর্যোগের ছায়া ফেলেছে।

গ্র্যাজুয়েশন লিস্ট, সাকসেসন প্ল্যান ও এ বি এম রেজাউল বারীর প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার

সরকারি চাকরির বিধিমালা ও এলজিইডির প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রধান প্রকৌশলীর পদটি খালি হলে পরবর্তী শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে জ্যেষ্ঠতা, মেধা ও পেশাগত রেকর্ডের ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়াই একমাত্র আইনসম্মত পন্থা। অধিদপ্তরের বর্তমান অফিশিয়াল গ্র্যাজুয়েশন লিস্ট, পদোন্নতি যোগ্যতার বর্ষপঞ্জি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার মানদণ্ডে পরবর্তী প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে অবস্থান করছেন ঢাকা বিভাগের বর্তমান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ বি এম রেজাউল বারী। নিয়ম ও অফিশিয়াল তালিকা অনুযায়ী সাবেক প্রধান প্রকৌশলী বেলালের পূর্বেও তাঁর জ্যেষ্ঠতার ক্রম অবস্থান করছিল।
প্রকৌশল অঙ্গনে এ বি এম রেজাউল বারী একজন নিবেদিতপ্রাণ ও অত্যন্ত দক্ষ প্রযুক্তিবিদ হিসেবে সুপরিচিত। সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণ, জটিল অবকাঠামোগত নকশা অনুমোদন এবং কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এক অনন্য ‘রিসোর্স পার্সন’ হিসেবে অবদান রাখছেন। বিষয়ভিত্তিক অসাধারণ জ্ঞান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং সততা এলজিইডির কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের মাঝে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। অথচ প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার সমস্ত নিয়ম ভেঙে এমন একজন যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বঞ্চিত করে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বসানোর পাঁয়তারা চলছে।

আব্দুর রশীদ মিয়ার বিতর্কিত নিয়োগ ও বাতিলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিজ্ঞতা

এলজিইডিতে অনিয়মতান্ত্রিক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ হলো আব্দুর রশীদ মিয়ার ঘটনা। ইতিপূর্বে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান চলা সত্ত্বেও চরম বিতর্কিত কর্মকর্তা আব্দুর রশীদ মিয়াকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এই নিয়োগ প্রকাশের পরপরই এলজিইডির প্রকৌশলী মহল এবং সংবাদমাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভের ঝড় ওঠে।
গণমাধ্যমের ধারাবাহিক সমালোচনা এবং প্রশাসনিক অসন্তোষের মুখে মাত্র ৪-৫ দিনের মাথায় সরকার ওই বেআইনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করতে বাধ্য হয়। ওই একটি সিদ্ধান্ত সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও সুশাসনের ভাবমূর্তিকে চরম প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল। সেই বিতর্কিত ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পুনরায় একই পদ্ধতিতে আরেক বিতর্কিত কর্মকর্তা জাভেদ করিমকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার অপচেষ্টা প্রশাসনিক দূরদর্শিতার চরম অভাবকেই নির্দেশ করে।

ফ্যাসিবাদের আমলেও রক্ষিত জ্যেষ্ঠতা: অভূতপূর্ব প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা

বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) মতো অত্যন্ত কারিগরি ও সংবেদনশীল দপ্তরগুলোতে শীর্ষ পদায়নে জ্যেষ্ঠতার অনুক্রম বা ‘সাকসেসন প্ল্যান’ কঠোরভাবে অনুসরণ করা হতো। এমনকি বিগত চরম স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট আমলেও এই দপ্তরগুলোর প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে জ্যেষ্ঠতার ক্রম বা সিরিয়াল ভাঙার সাহস করা হয়নি। অথচ বর্তমান সময়ে এসে সকল নিয়ম-কানুন ও জ্যেষ্ঠতার অনুক্রম ছিন্নভিন্ন করে চরম দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত একজন সাবেক কর্মকর্তাকে পুনরারোহণের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, যা সংস্থাটির সার্বিক পেশাদারিত্বের ভিত্তি ধসিয়ে দেওয়ার শামিল।

ক্ষমতার বহিরাগত মেরুকরণ ও নেপথ্যের সিন্ডিকেট

নিয়মতান্ত্রিক পদোন্নতির পথ রুদ্ধ করে জাভেদ করিমকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার এই প্রক্রিয়ার পেছনে কাজ করছে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিন্ডিকেট:

বহিরাগত মন্ত্রীর রাজনৈতিক প্রভাব

এই অনিয়মতান্ত্রিক নীল নকশার মূল কাণ্ডারি হিসেবে কলকাঠি নাড়ছেন লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের একজন প্রভাবশালী পূর্ণ মন্ত্রী। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও অন্য মন্ত্রণালয় থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলজিইডির অভ্যন্তরীণ শীর্ষ পদায়নে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন।
যদি এই বহিরাগত মন্ত্রী তাঁর চক্রান্তে সফল হন, তবে এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদ্বয়ের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ও প্রভাব মারাত্মকভাবে মুখ থুবড়ে পড়বে। পুরো দপ্তরটি একটি একক কায়েমি স্বার্থান্বেষী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে, যার ফলে এলজিইডি তার দীর্ঘদিনের গৌরবময় প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্য ও সার্বভৌমত্ব হারাবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত মো. শহীদুল হাসান এই সংবেদনশীল প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণে প্রশাসনিক অনুঘটক হিসেবে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কৌতূহলজনক বিষয় হলো, ২০০১ সালে মো. শহীদুল হাসান যখন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন, তখন তিনি নিজেই রাজনৈতিক চাপে জুনিয়র জাভেদ করিমকে বেআইনিভাবে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী করার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি নিজেই সেই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ফাইল সমন্বয়ে ভূমিকা রাখছেন।

অভ্যন্তরীণ পদায়ন শাখা

এলজিইডি সদর দপ্তরের নিয়োগ ও পদায়ন শাখার কর্মকর্তা (নির্বাহী প্রকৌশলী, চলতি দায়িত্ব) মো. শফিকুল ইসলাম জ্যেষ্ঠতা তালিকা সংক্রান্ত নথি সাজানো এবং মেধানুক্রম গোপন করে মন্ত্রণালয়ে বিভ্রান্তিকর ফাইল পাঠাতে অভ্যন্তরীণ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন।

অভিযুক্ত জাভেদ করিম: দুর্নীতির নথি ও অঢেল সম্পদের খতিয়ান

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের তালিকায় থাকা সাবেক কর্মকর্তা জাভেদ করিমের পুরো কর্মজীবন অনিয়ম ও চরম বিতর্ক দ্বারা আচ্ছন্ন। তাঁর দুর্নীতির বিষয়ে পূর্বে সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক লেখালেখি হয়েছে এবং সরকারের উচ্চপর্যায়েও লিখিত নথি জমা পড়েছে:
শুরুতেই বিধি লঙ্ঘন: কুয়েট (KUET) থেকে বিএসসি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রাক-চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগেই পিতার রাজনৈতিক প্রভাবে সরকারি শর্ত ভঙ্গ করে এলজিইডিতে রাজস্ব খাতের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।
লক্ষ্মীপুরে ৫ বছরের একচ্ছত্র রাজত্ব: ২০০১ সালে রাজনৈতিক প্রভাবে চরম জুনিয়র কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও লক্ষ্মীপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর (এক্সইএন) পদ বাগিয়ে নিয়ে টানা ৫ বছর অঘোষিত সম্রাটের মতো টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেন।
২৭ দিনের নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য: ২০২৪ সালের নভেম্বরে রুটিন দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী থাকার সময় মাত্র ২৭ দিনে নিজ অফিসে না বসে গোপনে ৭ কোটি টাকার বদলি বাণিজ্য করেন এবং নিজ জেলার জন্য বিধিবহির্ভূতভাবে ৫০-৬০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেন।
হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: তাঁর অর্জিত অবৈধ সম্পদের বিবরণ সরকারের উচ্চপর্যায়ে ও দুদকে জমা পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুলশান-১ এর ১৩০ নম্বর সড়কে শতকোটি টাকার ৩০ কাঠা জমি ও গ্যারেজ, বনানীর ২৫/এ সড়কে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ের ৫৫ নম্বর বহুতল ভবন, প্রগতি সরণিতে শতকোটি টাকার প্লট এবং হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে হাজার কোটি টাকা পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ।

প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ মানদণ্ড ও বিবরণ

এ বি এম রেজাউল বারী ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, জ্যেষ্ঠতার তালিকায় শীর্ষে এলজিইডির স্বীকৃত ‘রিসোর্স পার্সন’ ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ সর্বজনস্বীকৃত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও সৎ কর্মকর্তা অফিশিয়াল জ্যেষ্ঠতা ও মেধানুযায়ী শতভাগ স্বাভাবিক দাবিদার

জাভেদ করিম অবসরপ্রাপ্ত ও বিতর্কিত সাবেক কর্মকর্তা, শুরুতেই ফল প্রকাশের আগে নিয়ম ভেঙে চাকরিতে প্রবেশে অভিযুক্ত,
শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও পাচারে অভিযুক্ত, রাজনৈতিক লবিং ও বিপুল অর্থ বিনিয়োগের ব্যাকডোর প্রার্থী

রাষ্ট্র পরিচালনা ও সুশাসনের ওপর বিধ্বংসী প্রভাব

একটি চরম দুর্নীতিগ্রস্ত ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সকল নিয়মকানুন ভেঙে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার এই পাঁয়তারা রাষ্ট্র পরিচালনা ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার ওপর গভীর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে:
১. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুশাসন নীতির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক: বর্তমান সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিমুক্ত, মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ রাষ্ট্র পরিচালনার যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, জাবেদ করিমের মতো চিহ্নিত দুর্নীতিবাজকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলে তা সরকারের সেই ঘোষিত নীতির মুখচ্ছবিকে সরাসরি ক্ষুণ্ন করবে।
২. মেধাবী প্রকৌশলীদের সততার উৎসাহ বিনাশ: যখন নিয়মতান্ত্রিক পদোন্নতি ও জ্যেষ্ঠতা ডিঙিয়ে অনৈতিক লবিংকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, তখন সংস্থায় কর্মরত শত শত মেধাবী ও সৎ প্রকৌশলী সততার সাথে কাজ করার মানসিক উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন। এতে পুরো ক্যাডার সার্ভিসে চরম হতাশা ও প্রশাসনিক স্থবিরতা দেখা দেবে।
৩. উন্নয়নের চেয়ে টাকা তোলায় ব্যস্ততা: শত কোটি টাকা খরচ ও লবিং করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা চেয়ারে বসে দেশের টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে নজর না দিয়ে, নিজেদের বিনিয়োগকৃত টাকা সুদে-আসলে তুলতে এবং রাজনৈতিক প্রভুদের তুষ্ট করতে কমিশন বাণিজ্য ও অর্থ আদায়ে ব্যতিব্যস্ত থাকবেন।
৪. আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থা সংকট: এলজিইডির প্রধান প্রধান অবকাঠামো প্রকল্প বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। একজন চরম বিতর্কিত ও দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি শীর্ষপদে থাকলে বৈদেশিক অর্থায়ন বন্ধ বা ধীরগতির ঝুঁকিতে পড়বে।

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় করণীয় ও সুপারিশমালা

এলজিইডিকে এই আসন্ন বিপর্যয় ও প্রাতিষ্ঠানিক ধস থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে নিম্নলিখিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা জরুরি:
১. নিয়মতান্ত্রিক জ্যেষ্ঠতা অনুসরণ: অফিশিয়াল গ্র্যাজুয়েশন লিস্টের শীর্ষে থাকা যোগ্য, সৎ ও ‘রিসোর্স পার্সন’ হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ বি এম রেজাউল বারীকে অবিলম্বে নিয়মিত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি প্রদান করা।
২. চুক্তিভিত্তিক প্রথা রদ: কারিগরি সংস্থাগুলোতে নিয়মিত কর্মকর্তাদের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করে বহিরাগত বা অবসরপ্রাপ্তদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের চক্রান্ত স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
৩. বহিরাগত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ: অন্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ রোধ করে এলজিইডির প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দাপ্তরিক নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা করা।
৪. দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত: জাবেদ করিমের অবৈধ সম্পদ অর্জন, ফল প্রকাশের আগে বেআইনি চাকরি লাভ এবং ২৭ দিনের বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ দুদকের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।