০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ অনেক

অর্থনীতির ত্রিমুখী সংকট

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৭:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৭ বার পড়া হয়েছে
৯০

দেশের অর্থনীতিতে নিম্নমানের কর আদায়, খেলাপি ঋণ, ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি ও শাসনব্যবস্থার দুর্বলতার প্রভাব রয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিই কমছে না, এর অভিঘাতে একই সময়ে কমছে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয়ও। অন্যদিকে নিম্নমানের কর আদায়ের কারণে বড় ধরনের সংকট মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। বাজেটের ঘাটতি মেটাতে নির্ভরতা বাড়ছে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর। বিপুল অঙ্কের ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে বড় ধরনের চাপের মুখে আছে অর্থনীতি। মঙ্গলবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ-নতুন অর্থমন্ত্রীর জন্য রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার নোটে সামষ্টিক অর্থনীতির সার্বিক অবস্থা তুলে ধরেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

খেলাপি ঋণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং পুঁজি ঘাটতি-এই ত্রিমুখী চাপে পিষ্ট অর্থনীতির যে চিত্র তিনি তুলে ধরেছেন, তা মোকাবিলা করা নতুন অর্থমন্ত্রীর জন্য নিঃসন্দেহে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। আমরা মনে করি, রাজনৈতিক পালাবদলের উৎসবে অর্থনীতির এই অশনিসংকেত উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। কাজেই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা এবং খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি বন্ধ করা এখন আর কেবল নীতিমালার বিষয় নয়, এটি অর্থনীতির অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি। বিদায়ি উপদেষ্টা আগামী জুনে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামার আশা ব্যক্ত করলেও বাজারব্যবস্থায় আস্থা ফেরানো এবং সরবরাহ চেইন ঠিক রাখা নতুন সরকারের জন্য স্বাভাবিকভাবেই হবে অগ্নিপরীক্ষা। এছাড়া রাজস্ব আদায়ের নিম্নগতি অর্থনীতির এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। অভ্যন্তরীণ আয় কম হওয়ায় সরকারকে বাজেট ঘাটতি মেটাতে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এনবিআর-এর সংস্কার এবং কর আদায়ে ডিজিটালাইজেশনের যে পরামর্শ নোটে দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতার কারণে রপ্তানি আয়ে ভাটা এবং আমদানির প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর যে চাপ সৃষ্টি করছে, তা কমাতে প্রয়োজন হবে কঠোর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।

অস্বীকার করার উপায় নেই, নতুন অর্থমন্ত্রীর সামনে কোনো মসৃণ পথ নেই। অর্থনীতির এই ক্ষত সারাতে প্রয়োজন হবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কঠোর আইনি প্রয়োগ এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা। উত্তরাধিকার নোটে যে পথনকশা দেওয়া হয়েছে, তা অনুসরণ করে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সক্ষম হবে সরকার, এটাই প্রত্যাশা।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ওয়েবসাইট

জনপ্রিয় সংবাদ

চকরিয়া এলজিইডি-তে সৌরভ দাসের পদোন্নতি নাটক ও অবকাঠামোগত দুর্নীতির নেপথ্যে

নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ অনেক

অর্থনীতির ত্রিমুখী সংকট

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৯০

দেশের অর্থনীতিতে নিম্নমানের কর আদায়, খেলাপি ঋণ, ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি ও শাসনব্যবস্থার দুর্বলতার প্রভাব রয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিই কমছে না, এর অভিঘাতে একই সময়ে কমছে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয়ও। অন্যদিকে নিম্নমানের কর আদায়ের কারণে বড় ধরনের সংকট মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। বাজেটের ঘাটতি মেটাতে নির্ভরতা বাড়ছে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর। বিপুল অঙ্কের ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে বড় ধরনের চাপের মুখে আছে অর্থনীতি। মঙ্গলবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ-নতুন অর্থমন্ত্রীর জন্য রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার নোটে সামষ্টিক অর্থনীতির সার্বিক অবস্থা তুলে ধরেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

খেলাপি ঋণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং পুঁজি ঘাটতি-এই ত্রিমুখী চাপে পিষ্ট অর্থনীতির যে চিত্র তিনি তুলে ধরেছেন, তা মোকাবিলা করা নতুন অর্থমন্ত্রীর জন্য নিঃসন্দেহে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। আমরা মনে করি, রাজনৈতিক পালাবদলের উৎসবে অর্থনীতির এই অশনিসংকেত উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। কাজেই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা এবং খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি বন্ধ করা এখন আর কেবল নীতিমালার বিষয় নয়, এটি অর্থনীতির অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি। বিদায়ি উপদেষ্টা আগামী জুনে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামার আশা ব্যক্ত করলেও বাজারব্যবস্থায় আস্থা ফেরানো এবং সরবরাহ চেইন ঠিক রাখা নতুন সরকারের জন্য স্বাভাবিকভাবেই হবে অগ্নিপরীক্ষা। এছাড়া রাজস্ব আদায়ের নিম্নগতি অর্থনীতির এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। অভ্যন্তরীণ আয় কম হওয়ায় সরকারকে বাজেট ঘাটতি মেটাতে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এনবিআর-এর সংস্কার এবং কর আদায়ে ডিজিটালাইজেশনের যে পরামর্শ নোটে দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতার কারণে রপ্তানি আয়ে ভাটা এবং আমদানির প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর যে চাপ সৃষ্টি করছে, তা কমাতে প্রয়োজন হবে কঠোর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।

অস্বীকার করার উপায় নেই, নতুন অর্থমন্ত্রীর সামনে কোনো মসৃণ পথ নেই। অর্থনীতির এই ক্ষত সারাতে প্রয়োজন হবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কঠোর আইনি প্রয়োগ এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা। উত্তরাধিকার নোটে যে পথনকশা দেওয়া হয়েছে, তা অনুসরণ করে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সক্ষম হবে সরকার, এটাই প্রত্যাশা।