০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Parallel Administration is being operated at L G E D Headquarter by Engineer Shafiqul Islam

এল জি ই ডি প্রধান কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী (প্রশাসন) জনাব শফিকুল ইসলাম নেতৃত্বে চলছে প্যারালাল প্রশাসন। অসহায় খোদ প্রধান প্রকৌশলী ও।

  • Special Correspondent
  • আপডেট সময় : ০৪:০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৭৬ বার পড়া হয়েছে
৩৩২

এল জি ই ডি ভবন আগারগাঁও অবস্থিত এর সবথেকে গুরুত্বপূর্ন বিভাগ, প্রশাসন বিভাগ। সারাদেশে এ দপ্তরের যাবতীয় প্রশাসনিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ বিভাগের দায়িত্বে থাকলেও প্রধান প্রকৌশলী নিজেই সাধারনত  সরাসরি তত্ত্বাবধান করেন দপ্তর প্রধান হিসেবে৷

কিস্তু কোন এক অদ্ভূত কারনে বর্তমানে এল জি ই ডির প্রশাসন বিভাগের যাবতীয় কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রন করছেন এ বিভাগের ই সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী জনাব শফিকুল ইসলাম৷ নিন্ম পর্যায় হতে শুরু করে উচ্চ পর্যায় নির্বাহী প্রকৌশলী অর্থাৎ ৫ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বদলী পদায়ন এর যাবতীয় কার্যক্রম এ উক্ত শফিকের ইচ্ছার বাইরে,  কিংবা তাকে সন্তুষ্ঠ করতে না পারলে কোন কর্মকর্তার কোন কাজই সফল হয় না। কোন এক অদৃশ্য খমতার বলে এই কর্মকর্তা নিজ ইচ্ছামত বিপুল অংকের টাকা লেনদেন এর মাধ্যমে নির্ধারন করছেন কে কোন পদে বসবে আর কার কোথায় পদায়ন হবে।  এ খেত্রে আইন কানুন,  বিধিমালা কোন কিছুর ই তোযাক্কা করছেন না তিনি৷ প্রশাসন বিভাগে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র প্রকৌশলী জনাব শফিকের কথাই যেন শেষ কথা।  খোদ প্রধান প্রকৌশলী নিজেও যেন অসহায় তার কাছে।

 

সাবেক ফ্যাসিষ্টদের পতন ঘটলে তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী ও বংগবন্ধু পরিষদের নেতা আলী আখতার হোসেন গত ১২ ই আগষ্ট জনাব ব্রাখ্ষনবাড়ীয়া নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী জনাব সফিকুল ইসলাম কে প্রধান কার্যালয়ে সিনিঃ সহঃ প্রকৌশলী প্রশাসন হিসেবে নিয়োগ দান করেন। জনাব শফিক ১২ আগষ্ট ২০২৫ ইং তারিখে৷ অত্র কার্যালয়ে যোগদেন। উল্লেখ্য জনাব শফিক সহ আরও বেশ কিছু প্রকৌশলী ২০০৪ সালে প্রকল্পে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং পরবর্তী তে ২০১১ সালে কোর্ট এর স্বিদ্ধান্তে তাদের চাকুরীতে নিয়মিত হিসেবে পি এস সি কতৃক রাজস্ব খাতে আত্মীকরন করে। এসময় নিয়োগ পাওয়া প্রকৌশলী শফিকের নিজের নিয়োগ ই বিতর্কিত। বিভিন্ন সময়ে সাবেক আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী ও অর্থের যোগানদাতা জনাব শফিকুল ইসলাম এ পদে যোগদান করেই কোন আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে টাকা কামানোর জন্য নেমে পড়েন। সারা দেশ জুড়ে এল জি ই ডির কার্য সহকারী পদ হতে শুরু করে উপজেলা প্রকৌশলী পর্যায়ে সকল অভ্যন্তরীন বদলী, পদায়ন, পদোন্নতী কার্যক্রম নিজের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেন৷ এ জন্য প্রশাসন শাখায় অবৈধভাবে নিয়োগবিধি লংঘন করে গত প্রায় ২৫ বৎসর একই স্থানে কর্মরত থাকা চিহ্নিত দূর্নীতিবাজ আমিনুল আর ষাটমুদ্রাক্ষরিক মান্নান কে সাথে নিয়ে গড়ে তুলেন ঘুষ বানিজ্য চক্র। আর এভাবেই শুরু হয় এল জি ই ডির প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগে প্রকৌশলী জনাব শফিক এর প্যারালাল প্রশাসন।

৫ই আগষ্টের পর এ পর্যন্ত ৬ জন প্রধান প্রকৌশলী বদল হলেও এ পর্যন্ত একই পদে বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন  শফিকুল। কোন এক অদৃশ্য শক্তিশালী হাতের ইশারায় নাকি ঘুষবানিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ কোটি কোটি টাকার জোরে??  এ প্রশ্ন এল জি ই ডি তে কর্মরত সাধারন কর্মকর্তা প্রকৌশলীদের মুখে মুখে। কি এমন খমতার জোর এই শফিকুল ইসলামের,  যার কারনে প্রধান প্রকৌশলী পর্যন্ত তার এসকল অবৈধ কর্মকান্ড দেখেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন?

দেখা যাক তার কিছু অবৈধ কার্যক্রমের নমুনা :

নিয়োগলাভের পর হতে তিনি প্রতিটি পদের বদলী, অভ্যন্তরীন পদোন্নতি,  বিভাগীয় পদোন্নতী সহ সকল কাজের জন্য আলাদা করে ঘুষের রেট পূনঃ নির্ধারন করেন।

কার্যসহকারী/সার্ভেয়ারদের জন্য তিনলাখ হতে শুরু করে উপ সহকারী প্রকৌশলী,  সহকারী প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকৌশলী বদলী পদায়ন এ জায়গা বুঝে ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করেন তিনি। আবার টাকা দিলে নিয়োগবিধি লংঘন করে কোন আইনের তোয়াক্কা না করে, অযোগ্য লোকদের তিনি উচ্চতর ও লোভনীয় পদে পদায়ন করেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় যে, বর্তমানে জামালপুর জেলার দেওয়ানগন্জ উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত জনাব মোস্তাফিজ মেক্যানিক্যাল বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।  তাকে গত ২৭/১১/২৫ ইং তারিখে ১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্বে পদায়ন করেন শফিক। এল জি ই ডি র বিধিমালায় সিভিল ইন্জিনিয়ারিং এ বি এস সি ডিগ্রী ব্যাতিত উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পাবার মেক্যানিক্যাল বিভাগের কারও সুযোগ নেই।    এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায় কর্মরত উপজেলা প্রকৌশলী জনাব মাহবুব এর মূলপদ সার্ভেয়ার। তিনিও ১২ লক্ষ টাকা দিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন।

এ ছাড়াও দূর্নীতিবাজ প্রধান প্রকৌশলী জাভেদ করিমের শেষ কর্মদিবসে সন্ধাবেলায় এল জি ই ড এর বৃহৎ প্রকল্প আর ইউ টি ডি পি এর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব ফারুক হোসেন কে সিলেট হতে ঢাকায় এনে নগদ দুই কোটি টাকার বিনিময়ে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়, যার সকল সমন্বয় ও লেনদেন করে করে এ মহাশক্তিশালী শফিকুল ইসলাম।

গত ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী দূর্নীতিবাজ জনাব জাভেদ করিমের শেষ করামদিবস ছিলো।  অভিযোগ আছে ওইদিন বিকালে তিনি চুপিসারে সপ্তম তলায় তার প্রাক্তন কার্যালয়ে যান এবং বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্য সম্পন্ন করেন। প্রশাসন শাখার সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শফিক আহমেদ এবং কিছু সহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীকে কাজে লাগিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। অভিযোগ অনুসারে, এই স্বল্প সময়ে পরিচালিত নিয়োগ ও বদলি কার্যক্রমে কমপক্ষে সাত কোটি টাকা বাণিজ্য হয়েছে। একই দিনে আরও বেশ কয়েকজন উপ সহকারী প্রকৌশলী হতে উপজেলা প্রকৌশলী পর্যায়ে বেশ কিছু বদলী করান এ শফিক।  কথিত আছে ওই একদিনে শফিক ঘুষ হিসেবে দুই কোটি টাকার অধিক অর্থ আয় করেন।

এল জি ই ডি র বিধিমালায় সিভিল ইন্জিনিয়ারিং এ বিএসসি ডিগ্রী ব্যাতিত উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পাবার কারও সুযোগ নেই। এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায় কর্মরত উপজেলা প্রকৌশলী জনাব মাহবুব এর মূলপদ সার্ভেয়ার। তিনিও শফিক কে ১২ লক্ষ টাকা দিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়াও বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং এর ভূয়া সনদ দিয়ে কয়েকজন উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। খুব শীগ্রই জনস্বার্থে এ ধরনের  উপজেলা প্রকৌশলীদের একটি তালিকা জনসন্মুখে প্রকাশ করা হবে।

কোর্টের এক বিতর্কিত রায়ে উপ সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতী পাওয়া ১২ জনকে এল জি ই ডি তে পূনর্বাসন ও করেন এ শফিক।  তাদের কে উচ্চতর বেতন ভাতা কবে থেকে প্রদান করা হবে তার কোন সুনির্দিষ্ঠ দিকনির্দেশনা না থাকলেও তাদের বেতন বেতন ভাতা বাবদ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যায় করা হয়, যা জনগনের অর্থের অপব্যাবহার। ১৬ জন প্রধান প্রকৌশলী এ বিষয়ে কোন স্বিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন নি, কিন্তু দূর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচিত সাবেক প্রধান প্রকৌশলী জাভেদ করিমের সহযোগিতায় নগদ দেড় কোটি টাকা চুক্তিতে তাদের পূনর্বাসনের দায়িত্ব নেন শফিক।  জানা যায় সম্পূর্ন টাকা বিতর্কিত প্রকৌশলীদের দলনেতা ওহাব শফিকের বাসায় পৌঁছে দেয়ার পর তাদের পূনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

এ ছাড়াও দূর্নীতিবাজ প্রধান প্রকৌশলী জাভেদ করিমের শেষ কর্মদিবসে সন্ধাবেলায় এল জি ই ড এর বৃহৎ প্রকল্প আর ইউ টি ডি পি এর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব ফারুক হোসেন কে সিলেট হতে ঢাকায় এনে নগদ দুই কোটি টাকার বিনিময়ে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়, যার সকল সমন্বয় ও লেনদেন করে করে এ মহাশক্তিশালী শফিকুল ইসলাম।  এছাড়াও বড় বড় বেশ কয়েকটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে ৫০ লক্ষ হতে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়, যার মূল সমন্বয়কারী ও অর্থ কালেকশানের দায়িত্ব পালন করে এ দূর্নীতিবাজ শফিক এবং কমিশন হিসেবে হাতিয়ে নেন কয়েক কোটি টাকা, যার তালিকাও জনসন্মুখে আসছে।

এল জি ই ডি তে যে কোন বড় ধরনের অনিয়ম কে হালাল করতে তৎসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বড় অংকের অর্থ চাঁদা হিসেবে উত্তোলন করে ঘুষের ফান্ড তৈরি করার মূল কারিগরও এ শফিক। ঘুষের টাকা বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেয়ার কাজও তিনি নিজে করে থাকেন, যার কারনেই সে গড়ে তুলেছে এক শক্ত সিন্ডিকেট,আর তাদের ছত্রছায়ায় চলছে অবাধ দূর্নীতির মহা উৎসব। এ বিষয়ে বিগত সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছ।

ধূরন্ধর শফিক ঘুষের অবৈধ কোটি কোটি টাকায় স্থাবর সম্পত্তি অর্জনে খুব একটা কাজে না লাগিয়ে নগদ টাকা টাকা হিসেবে বিভিন্ন ব্যাংকে গচ্ছিত রেখেছেন বিভিন্ন নিকট আত্মীয়স্বজনের নামে। ঢাকায় স্ত্রীর নামে কেনা বিলাশবহুল ২৫০০ বর্গফুটের ফ্লাট ছাড়া তেমন কোন স্থাবর সম্পদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে একটি বিদেশী ব্যাংকের মাধ্যমে সিংগাপুরে বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা পাচারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্যাংকে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা। এছাড়াও প্রায় বিশ কোটি টাকা বিট কয়েনের মাধ্যমে কানাডায় পাচারের বিষয়টি ও এ সংষিষ্ঠ বেশ কয়েকটি সুত্র নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়গুলো দূদকের নজরে এনে সাম্প্রতিক সময়ে দূদক চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করেন জনৈক ব্যাক্তি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দূদকের উর্ধতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এ প্রতিবেদক কে৷ তিনি আরও জানান প্রকৌশলী শফিক দূর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ অর্থের অপব্যাবহার করে যাতে অনুসন্ধান কে কোনক্রমেই প্রভাবান্বিত করতে না পারে এ জন্য কমিশনের পক্ষ হতে অত্যান্ত সতর্কতার সাথে প্রাথমিক অনুসন্ধান পরিচালনা করছে ও একই সাথে আনিত অভিযোগসমূহের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যাবতীয় তথ্য সঠিকভাবে যাচাই বাছাই করে,  এবং উক্ত শফিক ও তার চক্রের আরও দুই তিনজনের অর্জিত অবৈধ স্থাবর অস্থাবর সম্পদ এর বিষয়ে দালিলিক তথ্য প্রমান হাতে আসলে এ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নিতে যাচ্ছে কমিশন৷

এখন সময় ই বলে দিবে আসলে এল জি ই ডি এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে আনা অভিযোগ এর কতটুকু সত্য??  না কি প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম এর মত কিছু মুষ্ঠিমেয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারনে বাকীরা দোষী হচ্ছেন??

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ওয়েবসাইট

জনপ্রিয় সংবাদ

চকরিয়া এলজিইডি-তে সৌরভ দাসের পদোন্নতি নাটক ও অবকাঠামোগত দুর্নীতির নেপথ্যে

Parallel Administration is being operated at L G E D Headquarter by Engineer Shafiqul Islam

এল জি ই ডি প্রধান কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী (প্রশাসন) জনাব শফিকুল ইসলাম নেতৃত্বে চলছে প্যারালাল প্রশাসন। অসহায় খোদ প্রধান প্রকৌশলী ও।

আপডেট সময় : ০৪:০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৩৩২

এল জি ই ডি ভবন আগারগাঁও অবস্থিত এর সবথেকে গুরুত্বপূর্ন বিভাগ, প্রশাসন বিভাগ। সারাদেশে এ দপ্তরের যাবতীয় প্রশাসনিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ বিভাগের দায়িত্বে থাকলেও প্রধান প্রকৌশলী নিজেই সাধারনত  সরাসরি তত্ত্বাবধান করেন দপ্তর প্রধান হিসেবে৷

কিস্তু কোন এক অদ্ভূত কারনে বর্তমানে এল জি ই ডির প্রশাসন বিভাগের যাবতীয় কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রন করছেন এ বিভাগের ই সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী জনাব শফিকুল ইসলাম৷ নিন্ম পর্যায় হতে শুরু করে উচ্চ পর্যায় নির্বাহী প্রকৌশলী অর্থাৎ ৫ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বদলী পদায়ন এর যাবতীয় কার্যক্রম এ উক্ত শফিকের ইচ্ছার বাইরে,  কিংবা তাকে সন্তুষ্ঠ করতে না পারলে কোন কর্মকর্তার কোন কাজই সফল হয় না। কোন এক অদৃশ্য খমতার বলে এই কর্মকর্তা নিজ ইচ্ছামত বিপুল অংকের টাকা লেনদেন এর মাধ্যমে নির্ধারন করছেন কে কোন পদে বসবে আর কার কোথায় পদায়ন হবে।  এ খেত্রে আইন কানুন,  বিধিমালা কোন কিছুর ই তোযাক্কা করছেন না তিনি৷ প্রশাসন বিভাগে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র প্রকৌশলী জনাব শফিকের কথাই যেন শেষ কথা।  খোদ প্রধান প্রকৌশলী নিজেও যেন অসহায় তার কাছে।

 

সাবেক ফ্যাসিষ্টদের পতন ঘটলে তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী ও বংগবন্ধু পরিষদের নেতা আলী আখতার হোসেন গত ১২ ই আগষ্ট জনাব ব্রাখ্ষনবাড়ীয়া নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী জনাব সফিকুল ইসলাম কে প্রধান কার্যালয়ে সিনিঃ সহঃ প্রকৌশলী প্রশাসন হিসেবে নিয়োগ দান করেন। জনাব শফিক ১২ আগষ্ট ২০২৫ ইং তারিখে৷ অত্র কার্যালয়ে যোগদেন। উল্লেখ্য জনাব শফিক সহ আরও বেশ কিছু প্রকৌশলী ২০০৪ সালে প্রকল্পে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং পরবর্তী তে ২০১১ সালে কোর্ট এর স্বিদ্ধান্তে তাদের চাকুরীতে নিয়মিত হিসেবে পি এস সি কতৃক রাজস্ব খাতে আত্মীকরন করে। এসময় নিয়োগ পাওয়া প্রকৌশলী শফিকের নিজের নিয়োগ ই বিতর্কিত। বিভিন্ন সময়ে সাবেক আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী ও অর্থের যোগানদাতা জনাব শফিকুল ইসলাম এ পদে যোগদান করেই কোন আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে টাকা কামানোর জন্য নেমে পড়েন। সারা দেশ জুড়ে এল জি ই ডির কার্য সহকারী পদ হতে শুরু করে উপজেলা প্রকৌশলী পর্যায়ে সকল অভ্যন্তরীন বদলী, পদায়ন, পদোন্নতী কার্যক্রম নিজের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেন৷ এ জন্য প্রশাসন শাখায় অবৈধভাবে নিয়োগবিধি লংঘন করে গত প্রায় ২৫ বৎসর একই স্থানে কর্মরত থাকা চিহ্নিত দূর্নীতিবাজ আমিনুল আর ষাটমুদ্রাক্ষরিক মান্নান কে সাথে নিয়ে গড়ে তুলেন ঘুষ বানিজ্য চক্র। আর এভাবেই শুরু হয় এল জি ই ডির প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগে প্রকৌশলী জনাব শফিক এর প্যারালাল প্রশাসন।

৫ই আগষ্টের পর এ পর্যন্ত ৬ জন প্রধান প্রকৌশলী বদল হলেও এ পর্যন্ত একই পদে বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন  শফিকুল। কোন এক অদৃশ্য শক্তিশালী হাতের ইশারায় নাকি ঘুষবানিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ কোটি কোটি টাকার জোরে??  এ প্রশ্ন এল জি ই ডি তে কর্মরত সাধারন কর্মকর্তা প্রকৌশলীদের মুখে মুখে। কি এমন খমতার জোর এই শফিকুল ইসলামের,  যার কারনে প্রধান প্রকৌশলী পর্যন্ত তার এসকল অবৈধ কর্মকান্ড দেখেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন?

দেখা যাক তার কিছু অবৈধ কার্যক্রমের নমুনা :

নিয়োগলাভের পর হতে তিনি প্রতিটি পদের বদলী, অভ্যন্তরীন পদোন্নতি,  বিভাগীয় পদোন্নতী সহ সকল কাজের জন্য আলাদা করে ঘুষের রেট পূনঃ নির্ধারন করেন।

কার্যসহকারী/সার্ভেয়ারদের জন্য তিনলাখ হতে শুরু করে উপ সহকারী প্রকৌশলী,  সহকারী প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকৌশলী বদলী পদায়ন এ জায়গা বুঝে ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করেন তিনি। আবার টাকা দিলে নিয়োগবিধি লংঘন করে কোন আইনের তোয়াক্কা না করে, অযোগ্য লোকদের তিনি উচ্চতর ও লোভনীয় পদে পদায়ন করেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় যে, বর্তমানে জামালপুর জেলার দেওয়ানগন্জ উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত জনাব মোস্তাফিজ মেক্যানিক্যাল বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।  তাকে গত ২৭/১১/২৫ ইং তারিখে ১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্বে পদায়ন করেন শফিক। এল জি ই ডি র বিধিমালায় সিভিল ইন্জিনিয়ারিং এ বি এস সি ডিগ্রী ব্যাতিত উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পাবার মেক্যানিক্যাল বিভাগের কারও সুযোগ নেই।    এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায় কর্মরত উপজেলা প্রকৌশলী জনাব মাহবুব এর মূলপদ সার্ভেয়ার। তিনিও ১২ লক্ষ টাকা দিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন।

এ ছাড়াও দূর্নীতিবাজ প্রধান প্রকৌশলী জাভেদ করিমের শেষ কর্মদিবসে সন্ধাবেলায় এল জি ই ড এর বৃহৎ প্রকল্প আর ইউ টি ডি পি এর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব ফারুক হোসেন কে সিলেট হতে ঢাকায় এনে নগদ দুই কোটি টাকার বিনিময়ে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়, যার সকল সমন্বয় ও লেনদেন করে করে এ মহাশক্তিশালী শফিকুল ইসলাম।

গত ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী দূর্নীতিবাজ জনাব জাভেদ করিমের শেষ করামদিবস ছিলো।  অভিযোগ আছে ওইদিন বিকালে তিনি চুপিসারে সপ্তম তলায় তার প্রাক্তন কার্যালয়ে যান এবং বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্য সম্পন্ন করেন। প্রশাসন শাখার সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শফিক আহমেদ এবং কিছু সহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীকে কাজে লাগিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। অভিযোগ অনুসারে, এই স্বল্প সময়ে পরিচালিত নিয়োগ ও বদলি কার্যক্রমে কমপক্ষে সাত কোটি টাকা বাণিজ্য হয়েছে। একই দিনে আরও বেশ কয়েকজন উপ সহকারী প্রকৌশলী হতে উপজেলা প্রকৌশলী পর্যায়ে বেশ কিছু বদলী করান এ শফিক।  কথিত আছে ওই একদিনে শফিক ঘুষ হিসেবে দুই কোটি টাকার অধিক অর্থ আয় করেন।

এল জি ই ডি র বিধিমালায় সিভিল ইন্জিনিয়ারিং এ বিএসসি ডিগ্রী ব্যাতিত উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পাবার কারও সুযোগ নেই। এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায় কর্মরত উপজেলা প্রকৌশলী জনাব মাহবুব এর মূলপদ সার্ভেয়ার। তিনিও শফিক কে ১২ লক্ষ টাকা দিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়াও বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং এর ভূয়া সনদ দিয়ে কয়েকজন উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। খুব শীগ্রই জনস্বার্থে এ ধরনের  উপজেলা প্রকৌশলীদের একটি তালিকা জনসন্মুখে প্রকাশ করা হবে।

কোর্টের এক বিতর্কিত রায়ে উপ সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতী পাওয়া ১২ জনকে এল জি ই ডি তে পূনর্বাসন ও করেন এ শফিক।  তাদের কে উচ্চতর বেতন ভাতা কবে থেকে প্রদান করা হবে তার কোন সুনির্দিষ্ঠ দিকনির্দেশনা না থাকলেও তাদের বেতন বেতন ভাতা বাবদ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যায় করা হয়, যা জনগনের অর্থের অপব্যাবহার। ১৬ জন প্রধান প্রকৌশলী এ বিষয়ে কোন স্বিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন নি, কিন্তু দূর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচিত সাবেক প্রধান প্রকৌশলী জাভেদ করিমের সহযোগিতায় নগদ দেড় কোটি টাকা চুক্তিতে তাদের পূনর্বাসনের দায়িত্ব নেন শফিক।  জানা যায় সম্পূর্ন টাকা বিতর্কিত প্রকৌশলীদের দলনেতা ওহাব শফিকের বাসায় পৌঁছে দেয়ার পর তাদের পূনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

এ ছাড়াও দূর্নীতিবাজ প্রধান প্রকৌশলী জাভেদ করিমের শেষ কর্মদিবসে সন্ধাবেলায় এল জি ই ড এর বৃহৎ প্রকল্প আর ইউ টি ডি পি এর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব ফারুক হোসেন কে সিলেট হতে ঢাকায় এনে নগদ দুই কোটি টাকার বিনিময়ে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়, যার সকল সমন্বয় ও লেনদেন করে করে এ মহাশক্তিশালী শফিকুল ইসলাম।  এছাড়াও বড় বড় বেশ কয়েকটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে ৫০ লক্ষ হতে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়, যার মূল সমন্বয়কারী ও অর্থ কালেকশানের দায়িত্ব পালন করে এ দূর্নীতিবাজ শফিক এবং কমিশন হিসেবে হাতিয়ে নেন কয়েক কোটি টাকা, যার তালিকাও জনসন্মুখে আসছে।

এল জি ই ডি তে যে কোন বড় ধরনের অনিয়ম কে হালাল করতে তৎসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বড় অংকের অর্থ চাঁদা হিসেবে উত্তোলন করে ঘুষের ফান্ড তৈরি করার মূল কারিগরও এ শফিক। ঘুষের টাকা বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেয়ার কাজও তিনি নিজে করে থাকেন, যার কারনেই সে গড়ে তুলেছে এক শক্ত সিন্ডিকেট,আর তাদের ছত্রছায়ায় চলছে অবাধ দূর্নীতির মহা উৎসব। এ বিষয়ে বিগত সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছ।

ধূরন্ধর শফিক ঘুষের অবৈধ কোটি কোটি টাকায় স্থাবর সম্পত্তি অর্জনে খুব একটা কাজে না লাগিয়ে নগদ টাকা টাকা হিসেবে বিভিন্ন ব্যাংকে গচ্ছিত রেখেছেন বিভিন্ন নিকট আত্মীয়স্বজনের নামে। ঢাকায় স্ত্রীর নামে কেনা বিলাশবহুল ২৫০০ বর্গফুটের ফ্লাট ছাড়া তেমন কোন স্থাবর সম্পদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে একটি বিদেশী ব্যাংকের মাধ্যমে সিংগাপুরে বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা পাচারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্যাংকে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা। এছাড়াও প্রায় বিশ কোটি টাকা বিট কয়েনের মাধ্যমে কানাডায় পাচারের বিষয়টি ও এ সংষিষ্ঠ বেশ কয়েকটি সুত্র নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়গুলো দূদকের নজরে এনে সাম্প্রতিক সময়ে দূদক চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করেন জনৈক ব্যাক্তি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দূদকের উর্ধতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এ প্রতিবেদক কে৷ তিনি আরও জানান প্রকৌশলী শফিক দূর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ অর্থের অপব্যাবহার করে যাতে অনুসন্ধান কে কোনক্রমেই প্রভাবান্বিত করতে না পারে এ জন্য কমিশনের পক্ষ হতে অত্যান্ত সতর্কতার সাথে প্রাথমিক অনুসন্ধান পরিচালনা করছে ও একই সাথে আনিত অভিযোগসমূহের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যাবতীয় তথ্য সঠিকভাবে যাচাই বাছাই করে,  এবং উক্ত শফিক ও তার চক্রের আরও দুই তিনজনের অর্জিত অবৈধ স্থাবর অস্থাবর সম্পদ এর বিষয়ে দালিলিক তথ্য প্রমান হাতে আসলে এ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নিতে যাচ্ছে কমিশন৷

এখন সময় ই বলে দিবে আসলে এল জি ই ডি এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে আনা অভিযোগ এর কতটুকু সত্য??  না কি প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম এর মত কিছু মুষ্ঠিমেয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারনে বাকীরা দোষী হচ্ছেন??