
খেলাপি ঋণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং পুঁজি ঘাটতি-এই ত্রিমুখী চাপে পিষ্ট অর্থনীতির যে চিত্র তিনি তুলে ধরেছেন, তা মোকাবিলা করা নতুন অর্থমন্ত্রীর জন্য নিঃসন্দেহে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। আমরা মনে করি, রাজনৈতিক পালাবদলের উৎসবে অর্থনীতির এই অশনিসংকেত উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। কাজেই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা এবং খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি বন্ধ করা এখন আর কেবল নীতিমালার বিষয় নয়, এটি অর্থনীতির অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি। বিদায়ি উপদেষ্টা আগামী জুনে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামার আশা ব্যক্ত করলেও বাজারব্যবস্থায় আস্থা ফেরানো এবং সরবরাহ চেইন ঠিক রাখা নতুন সরকারের জন্য স্বাভাবিকভাবেই হবে অগ্নিপরীক্ষা। এছাড়া রাজস্ব আদায়ের নিম্নগতি অর্থনীতির এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। অভ্যন্তরীণ আয় কম হওয়ায় সরকারকে বাজেট ঘাটতি মেটাতে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এনবিআর-এর সংস্কার এবং কর আদায়ে ডিজিটালাইজেশনের যে পরামর্শ নোটে দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতার কারণে রপ্তানি আয়ে ভাটা এবং আমদানির প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর যে চাপ সৃষ্টি করছে, তা কমাতে প্রয়োজন হবে কঠোর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।
অস্বীকার করার উপায় নেই, নতুন অর্থমন্ত্রীর সামনে কোনো মসৃণ পথ নেই। অর্থনীতির এই ক্ষত সারাতে প্রয়োজন হবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কঠোর আইনি প্রয়োগ এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা। উত্তরাধিকার নোটে যে পথনকশা দেওয়া হয়েছে, তা অনুসরণ করে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সক্ষম হবে সরকার, এটাই প্রত্যাশা।