• সর্বশেষ

    হলি আর্টিজানে নিহত জঙ্গিদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর

    | শনিবার, ০১ জুলাই ২০১৭ | পড়া হয়েছে 75 বার

    গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার এক বছরের মাথায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে নিহত ৫ জঙ্গির ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন।

    শনিবার দুপুর সোয়া ১টায় সিটিটিসির তদন্ত কর্মকর্তা হুয়ায়ুন কবিরের হাতে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ।

    এর পরই সাংবাদিকদের বিফ্রিং করেন ঢামেকের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ।

    ডা. সোহেল বলেন, ময়নাতদন্তের সময় ৫ জঙ্গির শরীর থেকে রক্ত, প্রসাব ও ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এ ছাড়া ডিএনএ পরীক্ষার জন্য দাঁতও সংগ্রহ করা হয়। নমুনা সংগ্রহের পর এগুলো পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়।

    তিনি বলেন, ৫ জঙ্গি কি করে ২০ জন মানুষকে হত্যা করলো এ বিষয়টি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তা- কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে ময়নাতদন্তে। ৫ জঙ্গি মৃত্যুর আগে মাদক অথবা শক্তি বর্ধক কোনো ওষুধ খেয়েছিল কিনা পরীক্ষায় সেগুলোও আমরা চেয়েছি।

    রিপোর্টে তাদের শরীরে শক্তিবর্ধক এবং কোনো মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তাছাড়া জঙ্গিদের শরীরে বোমার আঘাতের পাশাপাশি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানান ঢামেকের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের এই প্রধান।

    তিনি বলেন, হলি আর্টিজানে জঙ্গিদের হাতে নিহতদের কারো কারো মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। কাউকে আবার জবাই করা হয়েছিল, কারো শরীর থেকে বোমার স্প্লিন্টার পাওয়ার পাশাপাশি কারো শরীরে গুলির চিহ্নও পাওয়া গেছে।

    ফরেনসিক সূত্র জানায়, ৫ জঙ্গির ময়নাতদন্তের পর লাশগুলো কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছিল। বেশ কয়েকদিন লাশগুলো সেখানেই ছিল।

    পরে জঙ্গিদের পরিবার তাদের লাশগুলো নিতে না চাইলে লাশগুলো বেওয়ারিশ হিসেবে রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে দাফন করে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম।

    প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। জঙ্গিরা সেখানে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জিম্মিকে গুলি ও গলাকেটে হত্যা করে।

    হলি আর্টিজানের অভিযানের শুরুতেই দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রাণ হারান। পরের দিন সকালে সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে ‘অপারেশন থান্ডার বোল্ট’ নামে পরিচালিত কমান্ডো অভিযানে পাঁচ জঙ্গি ও এক সন্দেহভাজন নিহত হয়। হলি আর্টিজানে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করা হয় ১৩ জনকে।

    মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস এই ঘটনার দায় স্বীকার করে বলে খবর দেয় জঙ্গিবাদের অনলাইন কার্যক্রম নজরদারি করা প্রতিষ্ঠান সাইট ইন্টেলিজেন্স। তবে প্রথম থেকেই ওই ঘটনায় আইএস এর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে বাংলাদেশ।

    ওই ঘটনার পর নিহত পাঁচ জঙ্গিসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে সন্ত্রাস দমন আইনে গুলশান থানায় মামলা করে পুলিশ। মামলাটির তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    কয়েক মিনিটেই শেষ ১৮ বছরের আয়

    ০১ জুলাই ২০১৭ | 68 বার

    আর্কাইভ

    ফেসবুকে newsbanglabd24.com