• সর্বশেষ

    ছুটি শেষে এসে দেখে স্কুলঘর নেই

    | রবিবার, ০২ জুলাই ২০১৭ | পড়া হয়েছে 84 বার

    ছুটি শেষে এসে দেখে স্কুলঘর নেই

    শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার ইয়াকুব মাদবরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন পদ্মায় বিলীন হওয়ায় গতকাল গ্রামের সড়কের পাশে বাগানে চলছে পাঠদান

    ‘এক মাস আগে ক্লাস করেছি। রোজায় স্কুল বন্ধ হয়ে গেল। ছুটি শেষে আজ (শনিবার) এসে দেখি স্কুলটি নেই। পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে।’ মলিন মুখে কথাগুলো বলছিল শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার ইয়াকুব মাদবরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার।

    রমজান ও ঈদ উপলক্ষে ২৫ জুন বিদ্যালয়টি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যেই পদ্মা নদীর ভাঙন শুরু হলে ২০ জুন বিদ্যালয়টির একটি দোতলা পাকা ভবন নিলামে বিক্রি করা হয়। সেটি এক পাশে বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে আছে। গত ১০ দিনের ভাঙনে বিদ্যালয়টির টিনশেড ঘর, মাঠ ও জায়গা নদীগর্ভে চলে গেছে।

    ছুটি শেষে গতকাল শনিবার বিদ্যালয়টি খোলা হয়। শিক্ষার্থীরা এসে দেখে, তাদের স্কুলটি নেই। শিক্ষকেরা তাৎক্ষণিকভাবে ইয়াকুব মাদবরকান্দি গ্রামের শেষ প্রান্তে মমিনুল হক নামের এক ব্যক্তির উঠানের পেছনে খোলা জায়গায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে পাঠদান শুরু করেন।

    বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৪৩ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। ২০০৯ সালে বিদ্যালয়ের জন্য একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। বিদ্যালয়টিতে এখন ২১৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টির আরও তিনটি কক্ষে হাসেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলত। গত বছর ভাঙনে হাসেম আলী বিদ্যালয়ের ভবন বিলীন হওয়ার পর থেকে ইয়াকুব মাদবরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে তাদের কার্যক্রম চলত। গতকাল থেকে তারা পাশের কাঁকড়াভোগ গ্রামে টিনের তৈরি ঘরে চলে গেছে।

    গতকাল দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, বাগানের মাঝে ৪০-৪৫ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করানো হচ্ছে। খবর পেয়ে সেখানে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান এসেছেন। তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সান্ত্বনা দেন।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই বিদ্যালয়টির জন্য একটি টিনের ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    বিদ্যালয়টির চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইলিয়াস ও রাহাত জানায়, এভাবে বিদ্যালয়টি হারিয়ে যাবে তারা ভাবতে পারেনি। এখন কোথায় তারা পড়ালেখা করবে? খোলা জায়গায় বসে কি পড়া যায়?

    ইয়াকুব মাদবরকান্দি গ্রামের মঞ্জু বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে তানিয়া তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। সকালে বাড়ি আসে। তার মুখে জানতে পারি, বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্ট পেয়েছে। এখন কোথায় তাদের পাঠদান করানো হবে, তা নিয়ে আমরাও শঙ্কায় আছি।’

    বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক রাবেয়া বেগম বলেন, ‘এভাবে আমরা গৃহহারা হব, ভাবতে পারিনি। আপাতত গ্রামের শেষ প্রান্তে সড়কের পাশে খোলা জায়গায় পাঠদান চালাচ্ছি। কোথাও একটি ঘর খোঁজার চেষ্টা করছি। খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চালানো যাবে না।’

    এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মহোদয়কে জানানো হয়েছে। তিনি অস্থায়ীভাবে ঘর নির্মাণের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। টাকা পেলে জায়গা নিয়ে ঘর নির্মাণ করা হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    কয়েক মিনিটেই শেষ ১৮ বছরের আয়

    ০১ জুলাই ২০১৭ | 68 বার

    আর্কাইভ

    ফেসবুকে newsbanglabd24.com